আমিষ ও নিরামিষ আহার প্রসঙ্গ **** এ বিষয়ে অনেকেই তো অনেক পোস্ট করছে, তাই আমিও একটু দুঃ সাহস দেখালাম তবে খানিকটা অন্য দৃষ্টিভঙ্গিতে ।
নিঃ + আমিষ> নিরামিষ, এখানে আমিষ বলতে খাদ্যের প্রোটিন নয়, এখানে আমিষ বলতে বদ্ধজীবের আমিত্ত্ব বা মিথ্যা অহং যেটাকে রামকৃষ্ণ বলেছিলো “কাচা আমি “। তো আহার হলো ইন্দ্রিয়গুলো যা গ্রহন করে ( চোখেরর আহার রুপ,ত্বকের আহার স্পর্শ ,জিহ্বার আহার রস,কানের আহার শব্দ,নাকের আহার গন্ধ এরকম সকল ইন্দ্রিয়গুলি যা গ্রহন করে) । এখন আমাদের জীবনের চরম উদ্দেশ্যই হলো মুক্তি লাভ,বা ভগবদ্ধাম প্রাপ্তি বা মিথ্যা অহং( কাচা আমি) কে দুর করে সত্যিকারের অহং( পাকা আমি) তে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। তাই যা গ্রহন করলে বা যা আচরন করলে আমরা বদ্ধ অবস্থার মধ্যেই ঘোরাফেরা করবো তাই হলো সত্যিকারের আমিষ আহার। কিন্তু আমরাতো সবাই এ অবস্থা থেকে উদ্ধার পেতে চাই সে জন্য আমাদেরকে সেইসকল বিষয় গ্রহন করতে হয় যার দ্বারা আমরা আমাদের দেহবোধের ঔ আমিষ তথা আমিত্ত্বকে দুর করে মুক্ত হয়ে নিঃ+ আমিষ > নিরামিষ হতে পারি। এখানে এই অর্থে নিরামিষ আসলে হওয়ার বিষয় যা আমাদের সবাইকে সাধন ভজনের মাধ্যমে হতে হবে। সেজন্যই বলা হয় নিরামিষ না হলে ধর্ম হয় না, বস্তুত নিরামিষ বলতে একটা অবস্থার নাম। তো এই অবস্থা তো আর এমনি এমনি হবে না, কিছুতো একটা করতে হবে। কি দিয়ে করবো? এই শরীর মন দিয়েই করবো। তাই এই শরীরদিয়ে ( ইন্দ্রিয় গুলো দিয়ে) , মন দিয়ে আমরা যেসকল তথ্য বা উপাদান বা প্রয়োজনীয় যা কিছু গ্রহন করলে ঔ নিঃ আমিষ অবস্থা
প্রাপ্ত হই সে সকলই হলো নিরামিষ আহার। সেটা হতে পারে সাধনায় সহায়ক কোনো খাদ্যবস্তু, বা কোনো জ্ঞান বা কোনো আচরন। আমরা জানি আহার শুদ্ধৌ চিত্ত্ব শুদ্ধৌ ( বানান ঠিক করে নিবেন) । তো এই চিত্ত্ব শুদ্ধিকর আহারকে আমরা বলি সাত্ত্বিক আহার। কিন্তু এটা কোনো নির্দিষ্ট খাদ্যবস্তুকেই বোঝায় না বরং নানাবিধ আহারের মধ্যে খাদ্য অন্যতম একটি। আহার আর খাদ্যবস্তুর মধ্যে প্রভেদকে আমরা যেনো ঠিক ঠিক ভাবে বুঝতে পারি। সকল খাদ্যবস্তুই আহার কিন্তু সকল আহারই খাদ্যবস্তু নয়। তো কোন খাদ্যটি গ্রহন যোগ্য আর কোনটি গ্রহনযোগ্য নয় তা বিচার করতে রামানুজাচার্য খাদ্যের তিনটি দোষ( আশ্রয় দোষ,জাতি দোষ ও নিমিত্ত দোষ) তুলে ধরেছেন। আমরা সেগুলোর সুষ্ঠু বিচারবিবেচনা করেখাদ্য গ্রহন করতে পারি। মনে রাখিতে হইবে, সনাতন ধর্মে অধিকারবাদকে সবব্যাপারে প্রাধান্য দেয়া হয়। যার যেমন স্বভাব সে সেইরুপই গ্রহন করে অথবা যার যেমন প্রয়োজন তাকে সেই অনুসারেই গ্রহন করতে হয়। তো এ ব্যাপারে নিজ নিজ জীবনাচারকে আমরা প্রাধান্য দিবো। তবে হ্যা, আবার সেই প্রসঙ্গে যাই, ” কথায় আছে আমিষ আহারে ধর্ম হয় না ” কথাটা একদম ঠিক। যেসব আহারে ( আহার বলতে শুধুই খাদ্য নয়) আমার আমিত্ত্ব থেকেই যায় সেসবে তো ধর্ম না হওয়ারি কথা। ধার্মিক হওয়াটা হলো এখানে মুখ্য বিষয়, খাওয়াটা মুখ্য নয় বরং ধার্মিক হতে এটি একটি উল্লেখযোগ্য দিক। সঙ্গতকারনে মাছ মাংস শব্দদুটো উল্লেখ করিলাম না। আপনাদের কৃপায় আমিষ নিরামিষের মতো একটি বহুল সমালোচিত বিষয় নিয়ে সাধুগুরুর কাছ থেকে খানিকটা শুনেছি যতটুকু গ্রহন করতে পেরেছি তার যৎসামান্য একটু সাহস করে তুলে ধরলাম। কতটা গ্রহনযোগ্য হবে তা আপনাদের মতো ভক্তদের উপরেই নির্ভর করে এ বিষয়ে আরো কোনো উচ্চ তত্ত্ব জানার অপেক্ষায় থেকে এখানেই ইতি টানলাম।
ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি।

প্রাপ্ত হই সে সকলই হলো নিরামিষ আহার। সেটা হতে পারে সাধনায় সহায়ক কোনো খাদ্যবস্তু, বা কোনো জ্ঞান বা কোনো আচরন। আমরা জানি আহার শুদ্ধৌ চিত্ত্ব শুদ্ধৌ ( বানান ঠিক করে নিবেন) । তো এই চিত্ত্ব শুদ্ধিকর আহারকে আমরা বলি সাত্ত্বিক আহার। কিন্তু এটা কোনো নির্দিষ্ট খাদ্যবস্তুকেই বোঝায় না বরং নানাবিধ আহারের মধ্যে খাদ্য অন্যতম একটি। আহার আর খাদ্যবস্তুর মধ্যে প্রভেদকে আমরা যেনো ঠিক ঠিক ভাবে বুঝতে পারি। সকল খাদ্যবস্তুই আহার কিন্তু সকল আহারই খাদ্যবস্তু নয়। তো কোন খাদ্যটি গ্রহন যোগ্য আর কোনটি গ্রহনযোগ্য নয় তা বিচার করতে রামানুজাচার্য খাদ্যের তিনটি দোষ( আশ্রয় দোষ,জাতি দোষ ও নিমিত্ত দোষ) তুলে ধরেছেন। আমরা সেগুলোর সুষ্ঠু বিচারবিবেচনা করেখাদ্য গ্রহন করতে পারি। মনে রাখিতে হইবে, সনাতন ধর্মে অধিকারবাদকে সবব্যাপারে প্রাধান্য দেয়া হয়। যার যেমন স্বভাব সে সেইরুপই গ্রহন করে অথবা যার যেমন প্রয়োজন তাকে সেই অনুসারেই গ্রহন করতে হয়। তো এ ব্যাপারে নিজ নিজ জীবনাচারকে আমরা প্রাধান্য দিবো। তবে হ্যা, আবার সেই প্রসঙ্গে যাই, ” কথায় আছে আমিষ আহারে ধর্ম হয় না ” কথাটা একদম ঠিক। যেসব আহারে ( আহার বলতে শুধুই খাদ্য নয়) আমার আমিত্ত্ব থেকেই যায় সেসবে তো ধর্ম না হওয়ারি কথা। ধার্মিক হওয়াটা হলো এখানে মুখ্য বিষয়, খাওয়াটা মুখ্য নয় বরং ধার্মিক হতে এটি একটি উল্লেখযোগ্য দিক। সঙ্গতকারনে মাছ মাংস শব্দদুটো উল্লেখ করিলাম না। আপনাদের কৃপায় আমিষ নিরামিষের মতো একটি বহুল সমালোচিত বিষয় নিয়ে সাধুগুরুর কাছ থেকে খানিকটা শুনেছি যতটুকু গ্রহন করতে পেরেছি তার যৎসামান্য একটু সাহস করে তুলে ধরলাম। কতটা গ্রহনযোগ্য হবে তা আপনাদের মতো ভক্তদের উপরেই নির্ভর করে এ বিষয়ে আরো কোনো উচ্চ তত্ত্ব জানার অপেক্ষায় থেকে এখানেই ইতি টানলাম।
ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি।